টাংগুয়ার হাওর ভ্রণের সকল তথ্য

0
486

টাঙ্গুয়ার হাওর ( Tanguar haor ) বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জে, তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর মিঠা পানির জলাভূমি যা ১০০ বর্গ কিলোমিটার যায়গা জুরে অবস্থিত। স্থানীয়রা এই হাওরকে নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল  বলেও সম্বোধন করে। পানিবহুল মূল হাওর ২৮ বর্গকিলোমিটার এবং বাকি অংশ গ্রামগঞ্জ ও কৃষিজমি। একসময় গাছ-মাছ-পাখি আর প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের আধার ছিল এই হাওর। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে টাঙ্গুয়ার হাওরকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তখনই অবসান হয় দীর্ঘ ৬০ বছরের ইজারাদারির।

২০০০ খ্রিস্টাব্দে ২০ জানুয়ারি এই হাওরকে ‘রামসার স্থান’ (Ramsar site) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। হাওর এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড সরকারের মধ্যে ২০০১ খ্রিস্টাব্দে ১২ ফেব্রুয়ারিএকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দের ৯ নভেম্বর থেকে হাওরের নিয়ন্ত্রণ নেয় জেলা প্রশাসন।শীত মৌসুমে পানি শুকিয়ে কমে গেলে এখানকার প্রায় ২৪টি বিলের পাড় (স্থানীয় ভাষায় কান্দা) জেগে উঠলে শুধু কান্দা’র ভিতরের অংশেই আদি বিল থাকে, আর শুকিয়ে যাওয়া অংশে স্থানীয় কৃষকেরা রবিশস্য ও বোরো ধানের আবাদ করেন। এসময় এলাকাটি গোচারণভূমি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বর্ষায় থৈ থৈ পানিতে নিমগ্ন হাওরের জেগে থাকা উঁচু কান্দাগুলোতে আশ্রয় নেয় পরিযায়ী পাখিরা —রোদ পোহায়, জিরিয়ে নেয়। কান্দাগুলো এখন (২০১২) আর দেখা যায় না বলে স্থানীয় এনজিও ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় সেখানে পুঁতে দেয়া হয়েছে বাঁশ বা কাঠের ছোট ছোট বিশ্রাম-দণ্ড।

কিভাবে যাবেনঃ

ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জঃ ঢাকার সায়দাবাদ থেকে  শ্যামলী, আল মামুন পরিবহন, হানিফ এবং মহাখালি থেকে এনা পরিবহণ সরাসরি  সুনামগঞ্জ যায়। ভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

সিলেট থেকে সুনামগঞ্জঃ সিলেট কুমারগাও থেকে সুনামগঞ্জ যাওয়ার বাস পাবেন ১০০ টাকার মতন ভাড়া নিবে, এবং মাজারের সামনে থেকে লাইট গাড়ি পাবেন ভাড়া ২০০ টাকা নিবে যেতে প্রায় ২ ঘন্টা লাগবে।

সুনামগঞ্জ থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরঃ সুনামগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড থেকে লেগুনা করে তাহেরপুর যেতে হবে ভাড়া ১০০০ টাকার মতন নিবে। তাহেরপুর থেকে টাংগুয়ার হাওর দিনে গিয়ে দিনে ঘুরতে ইঞ্জিন বোট ভাড়া নিবে ৩০০০ হাজার টাকার মতন তবে বেশিরভাগ মানুষ এখানে ১ রাত যাপন করে। সে ক্ষেত্রে আপনাকে তাহের পুর থেকে বোট রিজার্ভ নিয়ে টেকেরঘাট যেতে হবে। ভাড়া ছুটির দিনে নৌকা ভেদে ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা। ছুটির দিন বাদে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।

ঘুরাঘুরির পারফেক্ট সময়ঃ বর্ষায় হাওরের প্রধান রুপ ফিরে পায়। বর্ষা ছাড়া অন্য সময় এখানে ধান চাষ হয়। তাই ঘুরার সময় এপ্রিল থেকে অক্টোবর মানে বর্ষাকাল এছড়াও পূর্ণিমায় এখানে পাগল করা জ্যোৎস্না উপভোগ করতে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমায়।

কি কি দেখবেনঃ এখানে ঘুরার জন্য কয়েকটি যায়গা বিক্ষাত যেমনঃ ওয়াচ টাওয়ার (প্রধান হাওর), বারিক্কার টিলা, যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান। এবং মেঘালয়ের পার ঘেরা শহীদ সিরাজ লেক বা নিলাদ্রি লেক, লাখমাছড়া ঝর্ণা। এছাড়াও শহরে রয়েছে হাসন রাজা যাদুঘর।  এক রাত দুই দিনের এক ট্যুরেই সবগুলো প্লেস আপনি ঘুরতে পারবেন।

যাতায়াত ব্যবস্থাঃ ঢাকা থেকে বাস বা প্রাইভেট কার নিয়ে যেতে পারবেন। এবং বর্ষাকালে হাওরে বোটে ভ্রমণ করতে পারবেন তাছাড়া আপনি এক দিনের ট্যুরে গেলে বাইকে অনেক গুলো প্লেস ঘুরতে পারবেন।

এন্ট্রি ফি এবং পারকিং সূবিধাঃ শুধু মাত্র শিমুল বাগান ভ্রমণের জন্য ২০টাকা টিকেট কাটতে হয় এছাড়া অন্য কোথাও কোনো টিকিট নেই। তবে পার্সোনাল গাড়ি না নিয়ে যাওয়াই ভালো কারন পারকিং সুবিধা নেই।

কোথায় খাবেন এবং কি খাবেনঃ মূলত হাওড়ে দুই দিনের ট্যুরে বোটেই ৪ বেলা খাবার খাওয়া হয়। আর ১ দিনের ট্যুরে আপনি লোকাল হোটেলে খাবার খেতে পারবেন। সুনামগঞ্জ বাস স্টান্ডে পানশি এবং কিছু ভালো মানের রেস্তোরা রয়েছে। এছাড়াও তাহেরপুর এবং টেকের ঘাটেও লোকাল হোটেল রয়েছে। তবে বোটে হাওরের মাছ রান্না করে  খাওয়ার স্বাদই আলাদা। আর হ্যা রেস্তোরায় সব ধরনের খাবার পাওয়া যায় যেমনঃ তেহারি, কাচ্চি, খিচুড়ি, ভাত মাছ, মুরগি, হাস নানান ভর্তা এবং গ্রীল নান ইত্যাদি।

কোথায় থাকবেনঃ সাধারণত বোটে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে তবে এবং টেকের ঘাটে কয়েকটি হোটেল রয়েছে ভাড়া ২০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা রুম প্রতি। এছাড়াও সুনামগঞ্জে থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ
১। হোটেল নুর, পূর্ব বাজার স্টেশন রোড;
২। হোটেল নুরানী, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন রোড;
৩। হোটেল প্যালেস, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন রোড;
৪। সুরমা ভ্যালী আবাসিক রিসোর্ট;

সুবিধা অসুবিধাঃ এই ট্যুরটি একদম গ্রাম নিজের চোখে দেখার মতন বোটেই সীমিত ব্যাটারিতে মোবাইল চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা এবং খাওয়া দাওয়া থাকা এবং ওয়াশ রুম সবই বোটে এবং সব বোট হাই কমট নেই এবংকি অনেক বোটে নিচু হয়ে ওয়াশ রুমে ঢুকতে হয় তাই এটি একটি বড় সমস্যা এবং সুবিধা হলো হোটেল আছে আপনি চাইলে হোটেলেও থাকতে পারবেন।

ট্যুর আইটিনারি

২ রাত ১ দিনঃ রাত্রের বাসে ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ এবং সকালে পানশিতে নাস্তা করে বাইক রিজার্ভ নিয়ে টেকেরঘাট বারিক্কার টিলা শিমুল বাগান ঘুরে পথি মধ্যে দুপুরের খাবার খেয়ে বিকালটা হাসন রাজার যাদুঘরে কাটিয়ে। রাত্রের বাসে ঢাকা।

৩ রাত ২ দিনঃ
ডে একঃ
ঢাকা থেকে বাসে সুনামগঞ্জ এবং সকালের নাস্তা করে লেগুনা ভাড়া করে তাহেরপুর এবং তাহেরপুর থেকে বোটে টেকের ঘাট পথিমধ্যে বারিক্কার টিলা যাদুকাটা নদী এবং শিমুল বাগান দেখা। যেতে যেতে রাত দুপুর এবং রাত্রের খাবার বোটে।
ডে দুইঃ সকালে লাখমা ছড়া ঝর্ণা ঘুরে তাহেরপুরের উদ্যেশ্যে রওয়ানা দেওয়া এবং মাঝে মেইন হাওড় বা ওয়াচ টাওয়ারে গুছোল করে বিকালে তাহেরপুর থেকে লেগুনা করে হাসন রাজার যাদুঘর দেখা রাত্রের খাবার খেয়ে বাসে করে ঢাকা।

ABME/VROMONINFO

আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে বা এই বিষয়ে কোন কিছু জানানোর থাকলে নীচের মন্তব্য বিভাগে লিখতে ভুলবেন না । আপনার ভ্রমণ পিয়াশি বন্ধুদের সাথে নিবন্ধটি শেয়ার করে নিন যাতে তারাও জানতে পারে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here