সাংগু লেক ভ্রমণের সকল তথ্য

0
215
Tsomgo Lake
Tsomgo Lake

ভাবুনতো যত সামনে আগাচ্ছেন ততো আপনি হারাচ্ছেন বরফের রাজ্যে। রাস্তার দুপাশে বরফে ঢাকা একটু পরেই বরফে ঢাকা পাহাড় হঠাৎ শুরু হলো স্নোফল। কেমন যেন লাগছে শুনে তাইনা? হা আমার এমনি লেগেছিল। বরফ পছন্দ করেন না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর আর এমন বরফ দেখতে হলে যেতে হবে সিকিম যা বাংলাদেশ থেকে মোটামুটি ৬৭৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। সিকিমের ৩০ ভাগ জায়গা জুড়ে রয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা জোন এছাড়াও রয়েছে অনেক গুলো বরফে ঢাকা পাহাড় তার মধ্যে একটি সাঙ্গুলেক। আজকে আমরা কথা বলবো সাংগুলেক নিয়ে। এই লেকটি গাংটক থেকে নাথুলা যাওয়ার সময় উত্তর দিকে পরে। লেক থেকে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত সীমান্ত লম্বালম্বি সরলরেখায় পূর্ব-উত্তর পাশে যা মাত্র ৫কিলোমিটার ৩.১ মাইল দূরত্ব। তবে সড়ক পথে প্রায় ১৮ কিলোমিটার (১১ মাইল)। পূর্ব সিক্কিমে সাংগু লেকের পাশা পাশি আরও কয়েকটি ট্যুরিস্ট স্পট আছে যেমন বাবা মন্দির এবং নাথুলা পাস যা বাংলাদেশিদের জন্য নিষিদ্ধ। সিকিম শহর গ্যাংটক থেকে সাংগুলেক মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং সী লেভেল থেকে ৩৭৫৩ মিটার বা (১২,৩১৩ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত।

কিভাবে যাবেনঃ সাংগু লেক যেতে হলে ঢাকা থেকে শুরু করলে বাংলা বান্ধা অথবা বুরিমারি বর্ডার ক্রস করতে হবে। এর পর শিলিগুরি হয়ে গ্যাংটক এর পর সেখান থেকে পারমিশন নিয়ে সাংগুলেক।

ঘুরাঘুরির পারফেক্ট সময়ঃ আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশিদের জন্য অকটোবর থেকে এপ্রিল কারন আমরা বরফ পছন্দ করি আর এই সময়েই বরফে ঢাকা থাকা সাংগুলেক।

এক্টিভিটিসঃ সাংগুলেকে রয়েছে ইয়াক রাইড যা ফুল লেক ঘুরতে ৬০০ থেকে ১২০০ রুপি নেয়। আর ছবি তুললে ১০০ থেকে ২০০ রুপি নেয়। এবং ক্যাবল কার মিস করবেন না ২০০০ ফুট উপরে বরফের আরেক রাজ্য। যেতে ১৫ মিনিট লাগে আসতে ১৫ মিনিট আপনি ঘন্টা খানেক থাকতে পারবেন। খরচ ৩২৫ রুপি নেয়।

খোলা এবং বন্ধের সময়ঃ এমনি বাংলাদেশিদের জন্য রেস্ট্রিক্টেড এরিয়া তবে বন্ধের নির্দিষ্ট সময় নেই যেকোনো সময় বন্ধ এবং খোলা থাকে কারন অতিবৃষ্টি বা অতি তুষারপাতের কারনের মাঝে মাঝেই বন্ধ থাকে। তাই এর নির্দিষ্ট তথ্য পেতে হলে গ্যাংটক থেকেই নিতে হবে।

যাতায়াত ব্যবস্থাঃ সাংগুলের যেতে হলে আপনাকে রিজার্ভ টাটা সুমো/বলেরো/ট্যাক্সি/ইনোভা করে যেতে হবে এবং সেক্ষেত্রে ৪০০০ থেকে ৭০০০ টাকা ভাড়া নিবে। তবে গাড়ি আপনি ভাড়া করলে হবে না। ট্যুর এজেন্সি থেকে প্যাকেজ নিতে হবে যার মধ্যে গাইড এবং গাড়ি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এন্ট্রি ফি এবং পারকিং সূবিধাঃ সাংগুলেক যেতে হলে আপনাকে ১০ টাকা টিকিট মূল্য পরিশোধ করতে হবে যা পথিমধ্যেই নিয়ে নেয় সাংগুলেক কর্তৃপক্ষ। সাংগুলেকে রাস্তার পাশেই গাড়ি পার্ক করে তাই খরচ লাগেনা।

কোথায় খাবেনঃ সাংগুলেক যাওয়ার সময় রাস্তায় অনেক খাবারের দোকান থাকে। যেহেতু যেতে মাত্র দুই ঘন্টা লাগে তাই সকালে গ্যাংটক থেকে নাস্তা করে যায় এবং দুপুরে গ্যাংটক এসে লাঞ্চ করে। এছাড়াও চা বা মমো পাবেন সাংগুলেকের পাঁশেই।

কোথায় থাকবেনঃ সাংগু লেক লোকাল লোক ছাড়া থাকার পারমিশন নেই তাই থাকার ব্যবস্থাও নেই। আপনাকে থাকতে হলে গ্যাংটক থাকতে হবে।

সুবিধা অসুবিধাঃ প্রচুর ঢান্ডা তাই অনেক শীতের কাপড় নিতে হবে।

এছাড়াও কিভাবে সিক্কিম ঘুরতে এই ব্লগটি পড়ুনঃ সিক্কিম ঘুরার খরচ সহ বিস্তারিত

রেস্ট্রিক্ট এড়িয়া পারমিশনঃ লাচুং + সাংগু লেকে পারমিটের জন্য লাগবে মোট ১ কপি ইনারলাইন পারমিট ফটো কপি এবং ৬ কপি পাসপোর্ট এর ফটোকপি, ৬ কপি ভিসার ফটোকপি, ৬ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। সব ডকুমেন্টস জমা দিতে হয় ট্যুর অপারেটরের কাছে তারাই পারমিশন নিয়ে থাকে।

ABME/VROMONINFO

আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে বা এই বিষয়ে কোন কিছু জানানোর থাকলে নীচের মন্তব্য বিভাগে লিখতে ভুলবেন না । আপনার ভ্রমণ পিয়াশি বন্ধুদের সাথে নিবন্ধটি শেয়ার করে নিন যাতে তারাও জানতে পারে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here